বাসা ভাড়ার অজুহাতে অভিনব লুট, খাবারে ঘুমের ওষুধ—রহস্য উদঘাটনে পুলিশ
-চাঁদপুর প্রতিনিধি
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে একটি পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে অভিনব কায়দায় ঘরে প্রবেশ এবং খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে লুটের ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপরাধীরা প্রথমে বাসা ভাড়া নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের আস্থা অর্জন করে। পরে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা ঘরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করার পর মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
আস্থা অর্জনই ছিল মূল কৌশল
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে সাধারণ চুরি বা ডাকাতি বলে মনে হলেও তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পরিকল্পিতভাবেই ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে যাওয়া হয়েছিল। বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে অভিযুক্তরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হয় এবং ধীরে ধীরে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে।
পরিবারের আস্থা তৈরি হওয়ার পর সুযোগ বুঝে ঘরে প্রবেশ করে তারা। এরপর খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। খাবার খাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা অচেতন হয়ে পড়লে ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
তদন্তে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি
ঘটনার পর কচুয়া থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনার পেছনে থাকা পরিকল্পনা ও অপরাধীদের গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়। এর ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয় পুলিশ।
চাঁদপুরের কচুয়া থানা সাম্প্রতিক সময়েও বিভিন্ন অপরাধের তদন্ত ও অভিযানে সাফল্য দেখিয়েছে। চলতি বছরের মে মাসের কর্মমূল্যায়নে কচুয়া থানা চাঁদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ থানা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার তথ্যও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বাড়ির মালিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান
এ ধরনের ঘটনায় অপরিচিত কাউকে বাসা ভাড়া দেওয়ার আগে তার পরিচয়, জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থায়ী ঠিকানা ও কর্মস্থলের তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি নতুন ভাড়াটিয়ার সঙ্গে চুক্তি করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং স্থানীয়ভাবে পরিচয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে বাসা ভাড়া নেওয়ার অজুহাতে অপরিচিত কেউ ঘরে প্রবেশ করলে তার সঙ্গে একান্তে থাকা, খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা কিংবা মূল্যবান সামগ্রীর তথ্য জানানো থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুরের কচুয়ায় এর আগেও চুরি ও লুটের ঘটনায় বড় ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। গত জুনে উপজেলার বেরকোটা গ্রামে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে চুরির সময় বাধা দেওয়ায় ফাতেমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, কচুয়ার সর্বশেষ এই লুটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, লুট হওয়া মালামাল কোথায় রয়েছে এবং কীভাবে পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল—এসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
-নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলা