কুষ্টিয়ায় গণ অধিকার পরিষদের কর্মীর পায়ের রগ কাটার অভিযোগ, জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে গুরুতর হামলার দাবি
কুষ্টিয়ায় গণ অধিকার পরিষদের এক কর্মীর পায়ের দুটি রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় দলের আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে গণ অধিকার পরিষদ।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন গণ অধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ।
সমাবেশে হামলার অভিযোগ
গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, শনিবার বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে তাদের পূর্বঘোষিত একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চলছিল। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে সংসদ সদস্য আমির হামজা এবং আশপাশে থাকা জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা সেখানে এসে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তৌকির আহমেদ।
তাঁর দাবি, হামলার সময় গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়। একপর্যায়ে দলের একজন কর্মীর পায়ের দুটি রগ কেটে দেওয়া হয়। একই ঘটনায় আরেক নেতার নাকের হাড় ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি কপালের হাড় ফেটে যায় বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
দলের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় আরও বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজন বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ
গণ অধিকার পরিষদের নেতারা আরও অভিযোগ করেন, দলের কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের ব্যক্তিগত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হামলা চালানো হয়েছে।
তাদের দাবি, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের মালামাল, নগদ টাকা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য ভাঙচুর করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আমির হামজাকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে তৌকির আহমেদ সংসদ সদস্য আমির হামজার উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, সমাবেশস্থলের সামনে দিয়ে আমির হামজা গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে গাড়ি থামান এবং এরপর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
তৌকির আরও দাবি করেন, আমির হামজা তাঁকে ইট দিয়ে প্রথম আঘাত করার অভিযোগ করেছেন। এ অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি ছবি বা ভিডিও প্রমাণ দেখানোর চ্যালেঞ্জ জানান।
এদিকে, হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টা বক্তব্যও এসেছে। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমির হামজাকে ঘিরে হামলার অভিযোগ নিয়ে আলাদা বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামনে এসেছে।
থানায় এজাহার জমা
গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার ঘটনায় থানায় একটি এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে। আহত নেতা-কর্মীদের চিকিৎসার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ
কুষ্টিয়ার এই সংঘর্ষের ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে একজন কর্মীর পায়ের রগ কেটে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে দুই পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা গণ অধিকার পরিষদের কর্মীর পায়ের রগ কেটেছেন—এটি গণ অধিকার পরিষদের অভিযোগ; আদালত বা নিরপেক্ষ তদন্তে অভিযোগটি প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত দায় কার, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
-নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলা