Columbus | ১৫ আগস্ট, ২০২৬ | ৩১ শ্রাবণ, ১৪৩৩
সর্বশেষ খবর
সূর্যের ঝড় ১২ ঘণ্টা আগেই শনাক্ত করবে AI, নতুন দিগন্তে NASA পাঁচ ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ফিরলেন প্রশাসকেরা বিএনপির স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন: সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে নতুন চার মুখ রায়গঞ্জে বিএনপির এমপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর রাজধানীর বসুন্ধরায় অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার ফিলাডেলফিয়ার তিন ব্যক্তি অনলাইনে ৬৮ মিলিয়ন ডলারের সরকারি চেক বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত মিয়ানমার, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির শর্ত ডারউইনে ইতিহাসের হাতছানি, চতুর্থ দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বপ্ন বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা সোসাইটি অব পেনসিলভেনিয়ার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফারুক মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা: তারেক রহমানের বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের প্রতিফলন মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইসিতে ৩টি মনোনয়নপত্র জমা লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ও অপেক্ষা ছাড়া আপাতত কোনো উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী ‘র’ প্রধানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে জল্পনার কিছু নেই: ডা. জাহেদ ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কে নতুন বার্তা: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
হোম বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি সূর্যের ঝড় ১২ ঘণ্টা আগেই শনাক্ত করবে AI, নতুন দিগন্তে NASA

সূর্যের ঝড় ১২ ঘণ্টা আগেই শনাক্ত করবে AI, নতুন দিগন্তে NASA

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:০৩ পিএম, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ 8
সূর্যের ঝড় ১২ ঘণ্টা আগেই শনাক্ত করবে AI, নতুন দিগন্তে NASA

নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলা | বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

নিউ ইয়র্ক, ১৫ আগস্ট ২০২৬:

সূর্যের ভেতরে তৈরি হওয়া বিপজ্জনক চৌম্বকীয় অস্থিরতা এবার দৃশ্যমান হওয়ার আগেই শনাক্ত করার পথে বড় অগ্রগতি করেছে বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-এর গবেষকদের তৈরি নতুন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) মডেল সূর্যের পৃষ্ঠে ঝড়-সৃষ্টিকারী সক্রিয় অঞ্চল বা active region দৃশ্যমান হওয়ার ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত আগেই শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।

এই গবেষণাটি NASA-এর COFFIES—Consequences Of Fields and Flows in the Interior and Exterior of the Sun প্রকল্পের বিজ্ঞানী ও ডেটা গবেষকদের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়েছে। গবেষণায় নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি এবং NASA Ames Research Center-এর গবেষকরাও যুক্ত ছিলেন।


সূর্যের অদৃশ্য সংকেত ধরছে AI

সূর্যের পৃষ্ঠে যে কালো দাগ বা sunspot দেখা যায়, তার পেছনে থাকে অত্যন্ত শক্তিশালী চৌম্বকীয় অঞ্চল। এসব সক্রিয় অঞ্চল থেকেই শক্তিশালী solar flare এবং coronal mass ejection (CME) সৃষ্টি হতে পারে।


সমস্যা হলো—এই চৌম্বকীয় অঞ্চল সূর্যের পৃষ্ঠে দৃশ্যমান হওয়ার আগে সূর্যের ভেতর দিয়ে ওপরে উঠে আসে। সেই সময় বিজ্ঞানীরা সরাসরি অঞ্চলটিকে দেখতে পারেন না।


NASA-এর নতুন AI মডেল এখানেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গবেষকরা সূর্যের পৃষ্ঠের ক্ষুদ্র পরিবর্তন, চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের ওঠানামা এবং acoustic waves বা শব্দতরঙ্গের পরিবর্তনের মতো সূক্ষ্ম সংকেত বিশ্লেষণ করতে AI ব্যবহার করেছেন।


গবেষণায় ব্যবহৃত মডেলটি দীর্ঘ সময়ের তথ্য বিশ্লেষণের জন্য একটি sliding-window transformer architecture ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে সূর্যের কার্যকলাপের সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্যাটার্নও বিবেচনায় নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।


কেন এই পূর্বাভাস এত গুরুত্বপূর্ণ?

সূর্যের শক্তিশালী বিস্ফোরণ শুধু মহাকাশের ঘটনা নয়—এর প্রভাব পৃথিবীর প্রযুক্তিনির্ভর জীবনেও পড়তে পারে।


শক্তিশালী solar flare ও CME থেকে আসা উচ্চ-শক্তির বিকিরণ এবং চার্জযুক্ত কণা—

* স্যাটেলাইটের কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে;

* রেডিও যোগাযোগে সমস্যা তৈরি করতে পারে;

* নেভিগেশন ও GPS-নির্ভর ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে;

* বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে;

* মহাকাশচারীদের জন্য বিকিরণজনিত ঝুঁকি বাড়াতে পারে।


NASA বলছে, ভবিষ্যতে মানুষ যখন চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানে আরও বেশি সময় কাটাবে, তখন মহাকাশের আবহাওয়া বা space weather সম্পর্কে আগাম সতর্কতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।এখনই কি AI-এর পূর্বাভাস কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে?এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা।

NASA স্পষ্ট করেছে, নতুন AI মডেলটি এখনো বাস্তব সময়ের operational forecasting-এর জন্য প্রস্তুত নয়। গবেষকরা আরও বহু পরিচিত solar event-এর ওপর মডেলটি পরীক্ষা ও উন্নত করার পরিকল্পনা করছেন।


অর্থাৎ, এটি এখনই এমন কোনো ব্যবস্থা নয় যা সাধারণ মানুষকে প্রতিদিনের solar storm alert দেবে। বরং এটি ভবিষ্যতের আরও নির্ভুল space-weather forecasting ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগত অগ্রগতি।


পৃথিবীর প্রযুক্তি রক্ষায় নতুন সম্ভাবনা

বর্তমানে NASA ও NOAA সূর্যের দৃশ্যমান সক্রিয় অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করে solar flare-এর সম্ভাবনা নির্ণয় করে। নতুন AI পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো—এটি অঞ্চলটি দৃশ্যমান হওয়ার আগেই তার সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছে।


গবেষকদের মতে, এই ধরনের আগাম তথ্য ভবিষ্যতে মহাকাশ মিশন, স্যাটেলাইট এবং মহাকাশচারীদের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় অতিরিক্ত সময় দিতে পারে।


বিশেষ করে চাঁদ ও মঙ্গলমুখী দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টার আগাম সতর্কতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


AI ও মহাকাশ বিজ্ঞানের নতুন যুগ

এই গবেষণা আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করছে—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শুধু মানুষের দৈনন্দিন কাজ, সফটওয়্যার বা ব্যবসায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি নয়। বিজ্ঞানীরা ক্রমেই AI ব্যবহার করছেন এমন প্রাকৃতিক ঘটনা বিশ্লেষণে, যেগুলোর জটিলতা মানুষের পক্ষে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন।


আর সূর্য নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সূর্যের ভেতরে কীভাবে চৌম্বকীয় শক্তি তৈরি, সঞ্চিত ও মুক্ত হয়—তার অনেক কিছুই এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। NASA-এর COFFIES প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্যই হলো সূর্যের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া আরও ভালোভাবে বোঝা এবং ভবিষ্যতে space-weather forecasting উন্নত করা।


একই সময়ে আরেকটি চমকপ্রদ কোয়ান্টাম অগ্রগতি


এই সপ্তাহেই বিজ্ঞানীরা সূর্যের আলো ব্যবহার করে quantum entanglement তৈরির পরীক্ষায় সাফল্যের কথা জানিয়েছেন। প্রচলিতভাবে এ ধরনের পরীক্ষায় লেজারের মতো coherent light ব্যবহার করা হয়। নতুন পরীক্ষায় সূর্যালোক ব্যবহার করে তৈরি entangled photons একটি আদর্শ entangled state-এর সঙ্গে প্রায় ৯৪ শতাংশ মিল দেখিয়েছে। ভবিষ্যতে এর সম্ভাব্য ব্যবহার হতে পারে নিরাপদ কোয়ান্টাম যোগাযোগ, স্যাটেলাইটভিত্তিক নিরাপদ encryption এবং আরও শক্তি-সাশ্রয়ী quantum technology।


শেষ কথা

সূর্যের ঝড়কে থামানো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু তার আগমনের সংকেত যদি আগে থেকে শনাক্ত করা যায়, তাহলে তার ক্ষতি কমানোর প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।


NASA-এর নতুন AI গবেষণা সেই লক্ষ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সূর্যের অদৃশ্য সংকেত পড়ে যদি ভবিষ্যতে কয়েক ঘণ্টা আগেই বিপজ্জনক solar storm শনাক্ত করা যায়, তাহলে মহাকাশচারী থেকে শুরু করে স্যাটেলাইট, যোগাযোগব্যবস্থা ও পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি—সবকিছুকেই আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব হতে পারে।