Columbus | ১৫ আগস্ট, ২০২৬ | ৩১ শ্রাবণ, ১৪৩৩
সর্বশেষ খবর
ফিলাডেলফিয়ার তিন ব্যক্তি অনলাইনে ৬৮ মিলিয়ন ডলারের সরকারি চেক বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত মিয়ানমার, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির শর্ত ডারউইনে ইতিহাসের হাতছানি, চতুর্থ দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বপ্ন বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা সোসাইটি অব পেনসিলভেনিয়ার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফারুক মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা: তারেক রহমানের বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের প্রতিফলন মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইসিতে ৩টি মনোনয়নপত্র জমা লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ও অপেক্ষা ছাড়া আপাতত কোনো উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী ‘র’ প্রধানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে জল্পনার কিছু নেই: ডা. জাহেদ ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কে নতুন বার্তা: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সৌদি আরবে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড: রিয়াদে প্রাণ গেল ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের নিউইয়র্কে করোনা ত্রাণ তহবিল জালিয়াতি: ৯ জনের দোষ স্বীকার, ফেরত দিতে হবে ১০ লাখ ডলারের বেশি কর-সংক্রান্ত জটিলতা ও আর্থিক তথ্য গোপনের প্রশ্নের মধ্যে পদত্যাগ করলেন আপার ডার্বি ট্রেজারার ড্যানি সাইদুজ্জামান অতিরঞ্জিত প্রশংসা বা অযৌক্তিক সংবাদ 🇧🇩 জুলাই বর্ষা বিপ্লবের দুই বছর 🇧🇩
হোম বর্হিবিশ্ব ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত মিয়ানমার, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির শর্ত

৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত মিয়ানমার, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির শর্ত

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:৫৪ পিএম, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ 64
৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত মিয়ানমার, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির শর্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকার বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করেছে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে যাচাই করা সাবেক বাসিন্দাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা কাজ চালিয়ে যাবে। তবে কবে নাগাদ প্রত্যাবাসন শুরু হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।

বাংলাদেশের দেওয়া তালিকায় ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গা


এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মিয়ানমারের কাছে মোট ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর তালিকা দিয়েছিল। জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত মিয়ানমার ওই তালিকার মধ্যে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনকে যাচাই করেছে।


যাচাই করা ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া মিয়ানমারের দাবি অনুযায়ী, তালিকায় থাকা ৪ হাজার ২৪১ জনের বিরুদ্ধে তারা কথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে।


মিয়ানমার জানিয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং রাখাইনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


২০১৭ সালের পর থেকেই আটকে আছে প্রত্যাবাসন


২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ব্যাপকসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এপি’র হিসাবে, ওই সময় ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে বিভিন্ন সময় সহিংসতার কারণে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন।


রোহিঙ্গাদের ব্যাপক হারে দেশত্যাগের ঘটনায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ ওঠে। আন্তর্জাতিক মহলেও এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।


বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ২০১৮ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য দুই বছরের একটি প্রক্রিয়ায় সম্মত হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।


মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত নতুন বাধা


২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর দেশটিতে ব্যাপক সংঘাত শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয়।


এপি জানিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে আরাকান আর্মি রাখাইনের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিয়ে নিরাপত্তা প্রশ্ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।


ক্যাম্পে বাড়ছে মানবিক সংকট


কক্সবাজারের বিশাল শরণার্থী শিবিরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা। খাদ্য ও মানবিক সহায়তায় অর্থায়ন কমে যাওয়া, ক্যাম্পের কঠিন জীবনযাপন এবং মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।


এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সংকটের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে সাগরে প্রাণহানির ঝুঁকিও বাড়ছে।


প্রত্যাবাসনে নতুন আশার পাশাপাশি রয়েছে অনিশ্চয়তাও


মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করার বিষয়টি দীর্ঘদিনের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু হবে না—মিয়ানমারের বক্তব্যে সেই শর্তই স্পষ্ট হয়েছে।


ফলে যাচাই সম্পন্ন হওয়া রোহিঙ্গাদের বাস্তবে কবে, কীভাবে এবং কোন নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করে ফিরিয়ে নেওয়া হবে—সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।


রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন টেকসই করতে তাদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার, নিজ ভূমিতে ফেরার সুযোগ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এপি’র প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমার এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করেছে। তবে প্রত্যাবাসনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।


তথ্যসূত্র: Associated Press (AP)