“সামাজিক অবক্ষয়”
মো: নাজমুল হাসান বাবু
বর্তমান বিশ্বে সামাজিক অবক্ষয় একটা ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সমাজের প্রতিটা ক্ষেত্রে এর ব্যাপ্তি এতটা প্রকট, যে ব্যক্তি সম্পর্ককে ছ্যাদ করছে প্রতিনিয়ত। ধরা যাক ২০ বছর আগের সমাজ ব্যবস্থা তখন এই হিংসা-বিদ্বেষ একে অপরের সাথে শত্রুতা, ধনী-গরীবের বৈষম্য, ধর্ম-কর্ম নিয়ে এতটা কঠোর অবস্থানে কেউই ছিলনা। সবকিছুতেই একটা,স্বাভাবিকতা ছিল।যুগের সুফল না পেয়ে আমরা পেয়েছি যুগের কুফল।মানুষের মাঝে মানুষের এতটাই বিবর্তন যে, চোখ খুললেই চারিদিকে বৈষম্যের হাতছানি, হিংসার লেলিহান বিষ ছড়িয়ে পড়ছে,একদিক থেকে অন্যদিকে।এটা বাংলাদেশ কি! আর আমেরিকাই বা কি! সব জায়গাতেই একই দৃশ্য।
সেই আগের মত সম্পর্কের যে বন্ধন সেটা আর নেই, ঈদ ও সামাজিক নানা আচার-আচরণে ভাই-বোনদের যে কলরব সেটা আর দেখা যায় না আগের মত। সেই সম্পর্ক আর মধুর স্মৃতিগুলো এখন এক ইতিহাস বন্দী স্মৃতি। বন্ধুত্ব ,প্রেম, ভালবাসা সবকিছু কালো-ছায়ার আভায় ডেকে গেছে, এখন আর সেই পবিত্র সম্পর্ক গুলো দেখা যায় না। বাবা-মার সাথে নিস্বার্থ ভালোবাসা সেটা এখন বিলীন এর পথে, সন্তান বড় হয়ে বাবা মার সাথে আর থাকতে চায় না, তাই বাবা মার শেষ আশ্রয়স্থল হয় বৃদ্ধাশ্রম।
আমরা ইতিহাস থেকেই জেনেছি, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে।পুরনো ফ্যাশন নতুন করে ফিরে আসে, পুরনো গান নতুন করে মনে পড়ে, ঠিক তেমনি ভাবে সেই পুরনো স্মৃতিগুলো, পুরনো মানুষগুলো, পুরনো সম্পর্কগুলো কোন এক কালের বিবর্তনে হয়তো আবার ফিরে আসবে। সেই ভ্রাতৃত্ব, সেই বন্ধন, সেই মায়া,সেই ভালোবাসা, স্মৃতিমাখা সব আবার ফিরে আসবে , হেসে খেলে আবার মেতে উঠবে ভাই-বোন, বাবা-মা তার সন্তানের কোলে মাথা রেখে জীবনের শেষ সময় টুকু পার করে দিবে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি কেটে যাক সব সামাজিক অবক্ষয়, নতুন সূর্য এসে শেষ করে দিক সকল অসঙ্গতি, গাছে আসুক নতুন কুরী, ফুটুক নতুন ফুল, মৌ মৌ মধুর গন্ধে হাসুক পৃথিবী।