মিয়ানমার সেনাবাহিনী হারিয়েছে আরেকটি সীমান্ত শহর।
ঢাকা প্রতিনিধি, মো: আরিফুল ইসলাম ০৭ এপ্রিল ২০২৪
সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহর মায়াওয়াদ্দির নিয়ন্ত্রণ নিতে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মিলে কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলা চালিয়ে আসছিল জাতিগত কারেন বিদ্রোহীরা।
এবার থাইল্যান্ডের সঙ্গে পূর্ব সীমান্তবর্তী শহরের নিয়ন্ত্রণ হারালো জান্তা বাহিনী। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) বিদ্রোহী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন শহরে অবস্থিত জান্তা ব্যাটালিয়নের আত্মসমর্পণ গ্রহণ করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
থাইল্যান্ডের সঙ্গে মিয়ানমারের স্থল বাণিজ্যের বেশির ভাগই হয়ে থাকে এই মায়াওয়াদ্দি শহরের মাধ্যমে।
থাইল্যান্ড সীমান্তের এই গুরুত্বপূর্ণ শহরে নিরাপত্তায় নিয়োজিত শত শত সেনা আত্মসমর্পণে রাজি হয়েছে। কারেন বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানবিরোধী বাহিনী কয়েক সপ্তাহ আগে মায়াবতী শহর আক্রমণ করে। তারা একটু একটু করে মায়াওয়াদ্দি শহরের ভেতর প্রবেশ বিভিন্ন সেনা চৌকি দখল করে নেয়।
থাইল্যান্ডের সঙ্গে মিয়ানমারের স্থলপথে বাণিজ্যের বেশিরভাগই মায়াওয়াদ্দির মধ্য দিয়ে যায়। শুক্রবার, কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) ঘোষণা করেছে, তারা মায়াওয়াদ্দি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার (পশ্চিমে থাঙ্গানিনাং শহরে অবস্থিত একটি সেনা ব্যাটালিয়নকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করেছে।
বিদ্রোহী যোদ্ধারা একটি ভিডিও পোস্ট করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে দখলে নেওয়া একটি অস্ত্রাগার নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত তারা। বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, তাদের আক্রমণের সঙ্গে পেরে না উঠে মিয়ানমারের সেনারা শহরটির নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদেরকে আত্মসপর্মন করাতে রাজি হয়েছে।
বিবিসি জানিয়ছে, গত তিন বছরে জান্তা বাহিনীকে এত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে আর পড়তে হয়নি। মায়াওয়াদ্দি শহরের নিয়ন্ত্রণ হারানো তাদের জন্য আরও একটি বড় ধাক্কা। মিয়ানমার সেনাদের ধারাবাহিক পরাজয়ের এটি সবশেষ উদাহরণ। এর আগে শান এবং রাখাইন রাজ্য হাতছাড়া হয়েছে জান্তাদের।
১৯৬২ সালের পর জান্তাকে এই প্রথম বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক অভ্যুত্থানে অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সামরিক বাহিনী। ক্ষমতায় বসেন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। এর পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিদ্রোহ দমনে হিমশিম খেতে হচ্ছে জান্তা সরকারকে।